রেকর্ডের হাতছানি
৫ম বারের মতো শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮লক্ষ ৬৫হাজার ৮০৪ টাকা
প্রকাশিত: ২৪/১০/২০২৬ ০৭:৪৫:০০ অপরাহ্ন
ছবি: রুম্মান আহমেদ।
সিলেটের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক নগরীর প্রাণকেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে এবারও মিলল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা। আজ মাজার কর্তৃপক্ষ ও ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলার পর দিনভর গণনা শেষে দেখা যায়, এবার সব মিলিয়ে মোট ৮৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চম বারের মতো এই অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এই গণনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাজারের মোট ৩টি ঐতিহ্যবাহী ডেগ এবং ৫টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার কাজ চলে। এবারও দানবাক্সগুলোতে দেশি নগদ টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপা পাওয়া গেছে। এছাড়া ভক্তদের বিভিন্ন আকুতি, দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও মিলছে দানবাক্সে।
সম্প্রতি দীর্ঘ শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের উপস্থিতি অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ফলে এবারের জমা হওয়া দানের অর্থের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে।মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দানের টাকা গণনা ও ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যয় করা হবে।
জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সিভি জমা পড়েছে। আগামী মাসের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হলে মাসে একবারের পরিবর্তে প্রতিদিন মাজারের টাকা গণনার স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে চলতি বছরের ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খুলে টাকা গণনা শুরু হয়েছিল। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় টাকা গণনা করা হয়। গত চার দফায় সব মিলিয়ে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া গেছে। আজ পঞ্চম দফায় প্রায় ৩৫ দিন পর আবারও এই অর্থ গণনার উদ্যোগ নেওয়া হলো, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
কেএন