রিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা
জকিগঞ্জে বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০২৬ ০৫:৫৮:১৩ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকার সুযোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই বসানো হচ্ছে পশুর হাট। প্রতি শনিবার ও বুধবার নিয়মিত হাট বসায় একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ বাজারের পাশেই অবস্থিত এই স্বনামধন্য বিদ্যালয়টি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সীমানা প্রাচীর বা বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় হাটের দিনগুলোতে (শনিবার ও বুধবার) মাঠজুড়ে হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও কলার বাজার বসানো হয়। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালীন সময়েই পথচারীদের খোলা স্থানে মলমূত্র ত্যাগের কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নারী শিক্ষক এবং ছাত্রীদের চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি বাজার কমিটিকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
উপজেলা পর্যায়ে টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়া এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬ জন নারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। কাব স্কাউট, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে টানা সাফল্য থাকলেও অবকাঠামোগত এই সংকটে এখন হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষার মূল পরিবেশ।
জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হ্যাপি রাণী দাস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "ইছামতি (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বহু সাফল্য অর্জন করলেও দুঃখের বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। হাটের দিনগুলোতে মাঠে বাজার বসায় পাঠদান চালানো দায় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি খোলা স্থানে প্রস্রাব করার কারণে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েও ফল হয়নি। আমরা এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।"
একটি সফল ও সম্ভাবনাময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মাঠ থেকে পশুর হাট অপসারণ এবং দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রাশাসনিক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
সিলেট/তা/১